রাজ্যজুড়ে চারিদিকে চলছে অবাধ দুর্নীতি। বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্ক্যাম করে যেমন দুর্নীতি চলছে, তেমন অবৈধ কাজকর্মের ভান্ডার হয়ে উঠেছে এই রাজ্য। চারিদিকে কান পাতলে শোনা যায়, অরাজনৈতিক এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড। যত যুগ এগোচ্ছে তত যেন অসামাজিক কার্যকলাপের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়ছে। এইবার তার বড়সড়ো প্রমাণ পাওয়া গেল দীঘার রেলস্টেশনে। দীঘার রেল স্টেশনে অনেকদিন ধরেই চলছিল এই অবৈধ কার্যকলাপ। শেষমেষ দিঘার আরপিএফের সহযোগিতায় এবং দুঃসাহসিক অভিযানে ধরা পরল দুর্নীতির মাথা।
বর্তমানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ভারতীয় রেলকে সবথেকে বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে সাধারণ নাগরিকরা। প্রত্যেকদিন হাজার হাজার টিকিট কাটা হয় অনলাইন মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য। দীঘা একটি অন্যতম ব্যস্ততম রেলস্টেশন, যেখানে প্রত্যেকদিন হাজারে হাজারে পর্যটক আসেন দীঘা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসার জন্য। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত দীঘা স্টেশন অত্যন্ত ব্যস্ততম স্টেশন, যেখানে প্রত্যেকদিন এক্সপ্রেস এবং লোকাল ট্রেন এই স্টেশন থেকে যাতায়াত করে এছাড়া রাজ্যের উত্তরবঙ্গ সহ পড়শি রাজ্যের পুরী ও দক্ষিণ বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো এই দীঘা স্টেশন থেকে যাতায়াত করে থাকে।
বর্তমানে অনলাইন সুবিধা হয়ে যাওয়ার জন্য বেশিরভাগ মানুষ অনলাইন মাধ্যমে টিকিট কাটেন। যেহেতু রিজার্ভেশন কম থাকে তার জন্যই অনেক সময় সঠিক সময়ে রেল টিকিট বুকিং করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভবপর হয় না। এজন্য অনেক সময় বিভিন্ন এজেন্সি বা অন্য কোন ব্যক্তির মারফত রেল টিকিট বুকিং এর জন্য বেশি টাকা দিয়ে টিকিট বুকিং করে অনেকেই।
আরোও পড়ুন:- ২৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে আয় করুন ৫০ হাজার টাকা, এই ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?
কিছু এজেন্সি রয়েছে এবং কিছু মানুষ রয়েছে যারা ব্যক্তিগতভাবে অসামাজিক ভাবে রেল টিকিট বুকিং এর কাজ করে থাকে। অনেকদিন ধরেই দীঘার রেল স্টেশনের আরপিএফ পুলিশের কাছে খবর এসেছিল, এমনই কেউ দীঘা স্টেশনে অবৈধভাবে টিকিটিংয়ের কাজ করছেন। সেই মতোই অভিযান চালিয়ে দীঘার রেল আরপিএফ এর কাছে গ্রেফতার হলেন এক ব্যক্তি। এই ব্যক্তির কাছে পাওয়া গিয়েছে হাজার হাজার রেল টিকিট।
বেআইনিভাবে রেল টিকেটিং এর জন্য সেই ব্যক্তিকে আটক করে পাঠানো হয়েছে থানায়। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দিঘার আরপিএফ থানা রেলওয়ে আইনের 143 ধারায় মামলা রুজু করেছে। বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে ২৫ হাজার ৬৪৫ টাকা রেলওয়ে টিকিট এবং একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন। এরমধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৭২ টাকা মূল্যের ২টি কারেন্ট টিকিট এবং ২১ হাজার ৬৭৪ টাকা মূল্যের ১০টি ব্যবহৃত টিকিট। কার্যত এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বেআইনি কার্যকলাপ চালাতো ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। অভিযুক্তকে ব্যক্তিকে মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার অন্তর্গত আগামীয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে আরপিএফ পুলিশ। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম দীপক শীট, বয়স ৩৬।
দিঘার আরপিএফ থানার আধিকারিক জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরে আরপিএফ থানার অন্তর্গত ওই এলাকায় অসাধুচক্র বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে দীঘায় মন্দির উদ্বোধনের পরে পর্যটকদের ভিড় আরো বেড়েছিল আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছিল এই অসাধুচক্র। যেহেতু টিকিটের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখে অনলাইনে বেআইনিভাবে টিকিটিং করে যাচ্ছিলেন অসাধু ব্যক্তিরা। তবে দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দীঘার আরপিএফ পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরার ফলে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত যদি আর কেউ থেকে থাকে তারাও সতর্ক হবেন।
তবে আরপিএফ এটাও সতর্কবার্তা জানিয়েছেন পর্যটকদের উদ্দেশ্যে, তাঁরা যেন টিকিট বুকিং এর আগে একটু সতর্ক থাকেন। যদি কোন এজেন্সি বা কোন ব্যক্তি মারফত টিকিট কাটতে দেন, সেই এজেন্সি এবং সে ব্যক্তি সম্পর্কে আগে সঠিক ধারণা নিয়ে টিকিট বুকিং করার জন্যও জানিয়েছেন দিঘার আরপিএফ থানার আধিকারিক।

