বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে SIR সমীক্ষার প্রস্তুতি পর্ব এবং সেই নিয়ে তোড়জোর। দিল্লিতে বৈঠক শেষেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলা সহ আরো ১১ টি রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এরপরই বাংলা জুড়ে আমজনতাদের মধ্যে SIR নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
SIR নিয়ে উদ্বেগের কারণ:- যেহেতু জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা সাথে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার মিলিয়ে দেখা হবে। যে সমস্ত নাগরিকদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত নেই, সে সমস্ত নাগরিকদের ২০২৫ সালের ভোটা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। যে সমস্ত নাগরিকদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি তাদের অভিভাবকদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকতে হবে বলে জানা গিয়েছে। তবেই তাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকা উঠবে। এই সিদ্ধান্ত জানানোর পরেই সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নাম রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে মাঠে নামবেন SIR এর ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসাররা। এর আগেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিএলও কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর্ব।
বিএলওদের কি কি কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে:-
কোনো নাগরিকের ভোটার তালিকা গরমিল থাকলে কী কী নথির প্রয়োজন রয়েছে, বিএলও কর্মীরা ভোটারদের বাড়িতে কতবার যাবেন, কীভাবে ফর্ম বিলি করবেন ইত্যাদি বিষয়ে বিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মালদহে প্রশিক্ষণ দেওয়া হল বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসারদের।
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কি হবে:-
বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসাররা আগামী ৪ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ব্লকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম বিলি করবেন। এই ফর্মে ভোটাররা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকার মিল দেখে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন। এক্ষেত্রে যদি কোন ভোটারের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নাম না থাকে তাহলে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই তারা তাদের বাবা মায়ের ভোটার তালিকা তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে পারবেন। BLO অফিসাররা এক একটি বাড়ি তিনবার করে ভিজিট করবেন।
কাদের নাম বাদ পড়বে ২০২৫ এর ভোটার তালিকা থেকে:-
১) যে সমস্ত ব্যক্তিরা মৃত হয়েছে তাদের নাম বাদ পড়বে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা থেকে।
২) যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম দুটি জায়গায় রয়েছে তাদের নাম বাদ পড়বে যে কোন একটি জায়গা থেকে।
৩) যদি কোন জীবিত ব্যক্তির মৃত ব্যক্তির জায়গায় থেকে থাকেন নাম তাহলে তাকে সশরীরে BLO দের কাছে এসে জানাতে হবে।
৪) যদি কোন ব্যক্তির ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকে এবং তার অভিভাবকের নামও না থাকে তাহলে সেই ব্যক্তিকে 12 টি নথি প্রদান করতে হবে BLO দের কাছে। তবে ১২টি নথি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে এখনো জানানো হয়নি।
এক্ষেত্রে যদি একই ব্যক্তির দুই জায়গায় নাম থাকে তাহলে তাদের নাম বাদের আশঙ্কা থাকছে। পাশাপাশি যদি কোনও জীবিত ব্যক্তি মৃতের তালিকায় থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে ওই ভোটারকে সশরীরে হাজির হয়ে নিজেদের বিএলওকে জানাতে হবে। তবে একেবারে যাদের পরিবারের কোনও সদস্যের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকবে না সে ক্ষেত্রে ১২ টি প্রয়োজনীয় নথি দেখে আগামী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও ১২ টি নথি সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা জানানো হয়নি।
২০০২ সালের ভোটার তালিকা কোথায় দেখা যাবে:- সিইও দপ্তর থেকে দেওয়া আগের ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের তালিকা দেখা যাচ্ছে না, তাই এই পরিস্থিতিতে সিইও দপ্তর আবার নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। ওয়েবসাইটটির নাম— https://ceowestbengal.wb.gov.in/। বর্তমান এই ওয়েবসাইটেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া এস আই আর সম্পর্কিত সমস্ত কার্যকলাপ এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হবে।
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যদি আপনার বাবা-মায়ের নাম না থাকে, তাহলে কী করণীয়? আপনার নাম তালিকায় ওঠানোর সহজ উপায় কি রয়েছে?
অনেক ব্যক্তি ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছেন কিনা দেখার জন্য কিভাবে দেখবেন বুঝে উঠতে পারছেন না, এইভাবে অনেক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন, তারা উপরে উল্লেখিত ওয়েবসাইট দেখে ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কিনা দেখে নিতে পারবেন।

