SIR-এর কামাল! বৃদ্ধাশ্রমে ফোনের বন্যা ছেলে-মেয়েদের,কোথায় দেখা মিলেছে এমন দৃশ্য?

সম্প্রতি চলছে SIR প্রক্রিয়ার কর্মকান্ড। আর এই জন্যই প্রত্যেক ব্লকে ব্লকে BLO বাড়িতে গিয়ে বিলি করছেন এনুমারেশন ফর্ম। যদিও এই SIR প্রক্রিয়া হবার জন্য বেশিরভাগ মানুষজন খুবই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন এবং একটা সমস্যার মধ্যেই রয়েছেন। কারণ সমস্ত নথিপত্র জোগাড় করে ফর্ম ফিলাপ করে সেগুলো জমা দেওয়ার একটা বিস্তর ঝামেলার প্রক্রিয়া। কিন্তু এই SIR প্রক্রিয়ার জন্যই কিছু স্বার্থ সন্ধানী মানুষদের মুখোশ আরো একবার উন্মোচন হয়েছে। কেন বলা হচ্ছে এরকম কথা? আসলে যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা তাদের বাবা ও মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছিলেন, প্রায় খোঁজখবর নেওয়া বন্ধই করে রেখেছিলেন, হঠাৎ করেই সেই সমস্ত বৃদ্ধাশ্রম এর মা-বাবার কাছে বারবার ফোন আসতে শুরু করে বেশ কয়েকদিন ধরে।

যদিও প্রথমে বৃদ্ধাশ্রমের বাবা মায়েরা বুঝতে পারেন না, হঠাৎ করে তাদের প্রতি তাদের সন্তানদের এতটা মায়া মমতা বেড়ে গেল কেন? কিন্তু পরে যদিও সমস্ত বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়। এমনই দৃশ্য দেখা গিয়েছে নদীয়া রানাঘাটের পুরাতন চাপড়ার জগদীশ মেমোরিয়াল বৃদ্ধাশ্রমে।

বেশ কিছুদিন ধরে সেখানকার বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের ফোন নাম্বারে তাদের ছেলেমেয়েদের ফোন বারবার আসছিল। ফোন করে তাদের ছেলে মেয়েরা তাদের শরীর কেমন রয়েছে খাওয়া-দাওয়া ঠিকঠাক করছেন কিনা, এই সমস্ত খোঁজখবর নিচ্ছিল একটু বেশি করেই। যদিও আসল উদ্দেশ্য ছিল তাদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, সেই নথিপত্র রয়েছে কিনা সে সমস্তই জানার জন্য। (SIR প্রক্রিয়া)

Indian Railways: ভারতীয় রেলে ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক পাশে ৩০৫৮ শূন্য পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি সহ অন্যান্য তথ্য?

বৃদ্ধাশ্রমের সম্পাদক গৌরহরি সরকার জানান, এই আশ্রমে মোট 44 জন আবাসিক রয়েছেন। তাদের সকলের কাছে এরকম ফোন বেশ কয়েকদিন ধরে অনেক বার করে আসছিল। প্রত্যেক ফোনেই কারণ একটাই ছিল 2002 সালের ভোটার তালিকায় তাদের বাবা মায়ের নাম রয়েছে কিনা এবং এই সংক্রান্ত নথি নেওয়ার জন্যই ছেলেমেয়েরা বারবার করে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন এবং ফোন করছিলেন। বর্ধমান, নদীয়া ও কলকাতার অনেক আবাসিকের ছেলেমেয়েদের যাদের এতদিন পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যেত না, একটা ফোন পর্যন্ত আসতো না হঠাৎ করেই তারাই নিয়মিত ফোন করছেন। হঠাৎ করেই যেন সে সমস্ত আবাসিকদের আদর যত্ন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তাদের ছেলেমেয়েদের কাছে। তবে এই আদর যত্নের আড়ালে যে স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে তা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন বৃদ্ধাশ্রমে আবাসিক তথা মা বাবারা এবং বৃদ্ধাশ্রম এর কর্মকর্তারা। (SIR প্রক্রিয়া)
এমন পরিস্থিতিতে চোখে জল নিয়ে ছেলেমেয়েদের এসআইআর কার্যকারিতার জন্য ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কিনা এই সমস্ত বিষয়ে সম্পূর্ণ সাহায্য করছেন ছেলেমেয়েদের। স্বার্থের জন্য যতই ছেলে মেয়েরা বাবা মায়ের কাছে আসুক না কেন, বাবা মা তো বাবা মাই হয়! তাই হয়তো এমন বিপদের সময় তাদের সাহায্য করাটাই তাদের উচিত মনে হয়েছে। চোখের কোণে জল রেখেই সম্পূর্ণ সাহায্য করছেন বিদ্যাশ্রমের আবাসিকরা তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য। (SIR প্রক্রিয়া)

Join Group Join Group