২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যদি আপনার বাবা-মায়ের নাম না থাকে, তাহলে কী করণীয়? আপনার নাম তালিকায় ওঠানোর সহজ উপায় কি রয়েছে?

বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হল বাংলা জুড়ে SIR প্রক্রিয়া। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দোষ দেওয়া হয়েছে নভেম্বরের মধ্যে এফআইআর সমীক্ষা শেষ করতে হবে। এর জন্যই এখন তৎপরতার সাথে এস আই আর অর্থাৎ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার কর্মকাণ্ড চলছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বাংলার মানুষজনদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক অনুরূপ অবস্থা বিহারে যখন এসআইআর হয়েছিল তখনও হয়েছিল। ইতিমধ্যে বাংলা জুড়ে এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কি কি কারণে এ বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে? আপনার নাম ২০২৫ এর ভোটার তালিকা থাকবে কিনা? আপনার বাবা মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকলে আপনার নাম 2025 সালের ভোটার তালিকায় থাকবে কিনা? এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত আপডেট পেতে হলে প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

বাংলা জুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া কবে শুরু হচ্ছে:-
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলা জুড়ে এসআইআর সমীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৮ অক্টোবর থেকে।

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কি সুবিধা রয়েছে:-
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিহারে যেমন ভাবে এস আইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল ঠিক অনুরূপভাবেই বাংলাতেও একইভাবে এসআইআর করা হবে। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া হওয়ার পরে এত বছরে আর কোন নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া করা হয়নি। এজন্য এত বছরে যে সমস্ত ব্যক্তির নাম বাদ যাওয়ার মতন রয়েছে, অর্থাৎ যাদের মৃত্যু হয়েছে কিংবা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে যে সমস্ত ব্যক্তিরা তাদের নাম বিয়োজন করা হবে এবং যে সমস্ত নতুন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের নাম সংযোজন করা হবে। অর্থাৎ এই নিবিড় ছাঁকনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সংযোজন ও বিয়োজন করাকে SIR বা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বলা হচ্ছে। আপনার পরিবারের বাবা মা বা গুরুজনই ব্যক্তিদের নাম যদি 2002 সালের ভোটার তালিকায় থেকে থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন কারণ তাহলে আপনাদেরকে কোনরকম প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না। আপনার পরিবারের যেকোনো একজন ব্যক্তির নাম যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থাকে তাহলে আপনাদের নাম অনায়াসেই ২০২৫ এর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আলাদা করে কোন নথি আপনাকে দেখাতে হবে না।

আরোও পড়ুন:- স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-য় বিপুল শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ, আবেদন সংক্রান্ত তথ্য জানুন বিস্তারিত।

কমিশনের নির্দিষ্ট ১১টি নথি কী কী?


জাতীয় নির্বাচন কমিশন SIR প্রক্রিয়ার জন্য ১১ টি নথি প্রদর্শন করার নিয়ম জারি করেছেন। এই ১১টি নথি হলো:- ১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।
২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি।
৩) জন্ম শংসাপত্র।
৪) পাসপোর্ট।
৫) মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র। ৬) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র।
৭) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
৮) জাতিগত শংসাপত্র।
৯) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার।
১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার। ১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।

কাদের নাম ২০২৫ এর ভোটার তালিকায় বাদ পড়বে:-
জাতীয় নির্বাচন কমিশন তরফে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন, বা যাদের নাম দুটি এপিক নম্বরে দুই জায়গায় রয়েছে তাদের নাম এক জায়গা থেকে বাদ পড়বে। অন্যদিকে কারচুপি করে তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিরা অর্থাৎ অবৈধ ভোটার বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে ভারতে আসা অনুপ্রবেশকারীরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্ধারিত নথির মধ্যে যদি কোন একটি নথি তৈরি করে ফেললেও, অবৈধ ভোটারদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বা তাদের বাবা মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় দেখাতে পারা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই তখন তাদের নাম ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে।

যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা যাঁদের নাম দু’টি এপিক নম্বরে দু’জায়গায় রয়েছে তাঁদের নাম এক জায়গা থেকে বাদ পড়বে। কারচুপি করে তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিরা ‘অবৈধ ভোটার’। এ ক্ষেত্রে বিশেষত বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ইঙ্গিত করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, কারচুপি করে ওই ১১টি নথির মধ্যে কোনও একটি তৈরি করা গেলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাবা বা মায়ের নাম দেখাতে পারবেন না। স্বাভাবিক ভাবেই তখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ভারতের নাগরিক প্রমাণ করতে না পারলে নাম বাদ যাবে।

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে সমস্ত ব্যক্তির মা বাবা বা অভিভাবক যারা রয়েছেন তাদের নাম যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থেকে থাকে তাহলে তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। যে সমস্ত ব্যক্তির বাবা-মা বা অভিভাবকদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাদেরকেই কিছু সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। তবে আপনি যদি ভারতীয় নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার চিন্তা কোন কারণ নেই। এসআইআর প্রক্রিয়ায় চিন্তা সেই সমস্ত ব্যক্তিদের যারা ভারতে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত হবেন।
এখনই দেখে নিন আপনার ভোটার লিস্টের নাম আছে কিনা link

Join Group Join Group